বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
তেল, চিনি থেকে মশলা কিংবা মাংস প্রায় সব নিত্যপণ্যের চড়া দামের উত্তাপ বাজারে। সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই দাম নাগালে রাখতে নতুন বাজেটে নির্দিষ্ট ভোগ্যপণ্যে শুল্ক ছাড় দেয়ার দাবি ভোক্তাদের। এদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজেটে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা রাখার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমান বাজারে সব ভোগ্যপণ্য চাহিদা মাফিক কেনা গেলেও গুনতে হচ্ছে আগের চেয়ে বাড়তি দামে। আবার কিছুদিন পরপরই কৃত্রিম সংকট দেখা দিচ্ছে কোন না কোন পণ্যের সরবরাহে। রয়েছে ডলার সংকটও। এমন বাস্তবতায় আসছে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট।
প্রতি বছর বাজেট এলেই সব শ্রেণির মানুষের নজর থাকে কোন পণ্যের দাম কমলো, আর কোনটার বাড়লো। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির চাপে নিত্যপণ্যের দামের দিকেই এবার নজর সবার। ভোক্তারা বলছেন, নিত্য পণ্যের দাম যদি সহনীয় মাত্রায় থাকে, তাহলেই বাজেট জনবান্ধব হবে।
আগামী অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের খসড়া করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
তিনি বলেন, ‘চাপ এবার আরও বেশি যেহতু বিশ্ব ব্যবস্থাটা টালমাটাল, অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। তবে আশা করি এটা ঠিক হয়ে আসবে।’
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ ও জাতীয় নির্বাচন, সব মিলিয়ে এবারের বাজেট প্রনয়নে সরকারকে সতর্ক হতে হবে। প্রবৃদ্ধি ঠিক রাখতে বিশেষ নজর দিতে হবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর।
অর্থনীতিবীদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘রেভিনিউ মোবিলাইজেশন যদি আপনি প্রত্যাশিতভাবে না করতে পারেন সেক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি ঘাটতি আমরা পাবো, যে ঘাটতিটা অনেক সময় ট্রেড অফ করতে হয়। অর্থাৎ আমি উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে অনুন্নয়ন বরাদ্দে, অনুন্নয়ন বরাদ্দ থেকে সেক্টরাল যে ট্রান্সফার, সেক্ষেত্রে আমাদের কাজ করতে হবে।’
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধির পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।